কখন কিভাবে নামাজে সুরা পড়ার নিয়ম অনুযায়ী নামাজ পড়তে হয়, নামাজের কিরাত. ছানা পড়ার নিয়ম. ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার নিয়ম. নামাজে সুরা পড়ার নিয়ম.

নামাজের নিয়ত ও তাকবীরে তাহরীমা

নামাজের ইচ্ছা করাই হচ্ছে নামাজের নিয়াত করা। মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব সুন্নত যা কেবলমাত্র নিজে শুনা বা অনুধাবন করা।

সমস্ত নামাজেই ,নাওয়াইঃতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া’লা
(২ রাকায়াত হলে) রাক্ ‘য়াতাই ছলাতিল
(৩ রাকায়াত হলে) ছালাছা রাক্ ‘য়াতাই ছলাতিল
(৪ রাকায়াত হলে) আর্ বায়  রাক্ ‘য়াতাই ছলাতিল

(ওয়াক্তের নাম) ফাজ্ রি/ জ্জুহরি/আ’ছরি/মাগরিবি/ইশাই/জুমুয়া’তি

(কি নামাজ তার নাম) ফারদ্বুল্লা-হি/ওয়াজিবুল্ল-হি/সুন্নাতি রসূলিল্লাহি/নাফলি।

(সমস্ত নামাজেই) তায়া’লা মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কা’বাতিশ শারীফাতি আল্ল-হু আক্ বার।

নামাজের নিয়ত শিখে নেওয়াটা কোন কঠিন কাজ নয়। তবে মুখস্ত না হওয়ার পর্যন্ত মাজুর হিসেবে এভাবে বাংলায়ও নিয়ত করা যেতে পারে।

আমি মহান আল্লা-হ্ পাকে’র উদ্দেশ্যে ক্কেবলা মুখী হয়ে, ফজরের/জোহরের/আসরের/মাফরিবের/ঈশার/জুময়ার/বি’তরের/তারঅবি/তাহাজ্জুদের (অথবা যে নামাজ হয় তার নাম)২ র’কাত/৩র’কাত/৪ র’কাত (যে কয় রাকাত নামাজ তার নাম)ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নাত/নফল নামাজ পড়ার নিয়াত করলাম, আল্ল-হু আকবার ।

নামাযের পূর্বে অযু করা ফরজ। অযু ব্যতীত নামাজ পড়া জাযেজ নেই। তবে ওযর থাকলে তাওয়ামুম করে নিলেও চলবে।অযু ব্যতীত সিজদা করা হারাম।


ছানা

হাত বাধার পর (নাভীর উপর বাম হাতের উপর ডান হাত বেধে, মহিলাদের ক্ষেত্রে বুকেরে উপর অনুরূপভাবে হাত বেধে) ছানা পাঠ করতে  হয়।
সুবহা-না কাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহাম্ দিকা ওয়াতাবারঅ কাস্ মুকা ওয়াতা’ আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলা-হা গয়রুক।
অর্থ-হে আল্লাহ পাক ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য সর্বোচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কেহই ইবাদতের যোগ্য নয় ।

তাআউজঃ আউযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম ।
অর্থ-বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ পাক উনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি ।


তাসমিয়াঃ বিসমিল্লাহির রহ্‌মানির রহিম ।
অর্থ-পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহ পাক উনার নামে শুরু করছি ।

এরপর সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে হয়,

আয়াত নং ১ الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আলহামদু লিল্লাহি রব্লিল আ’লামিন
অর্থ-সমস্ত প্রসংশা একমাত্র আল্লাহ পাক উনার জন্য ।

আয়াত নং ২ الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ
আর রহহমানির রহিম
অর্থ-যিনি পরম করুনাময় ও মহান দয়ালু

আয়াত নং ৩ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
মালিকি ইয়াওমিদ্দিন
অর্থ-যিনি বিচার দিনের মালিক

আয়াত নং ৪ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
ইয়্যা কানা’বুদু ওয়াইয়্যা-কানাস তাঈন
অর্থ-আমরা যেন আপনারই এবাদত করি এবং আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি

আয়াত নং ৫ اهدِنَـا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ
ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাক্বিম
অর্থ-আপনি আমাদের  সরল  পথ দেখান

আয়াত নং ৬ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ
সিরাত্বাল্লাযিনা আন আ’মতা আলাইহিম
অর্থ-তাদের পথ যাদের আপনি নিয়ামত (অনুগ্রহ) দান করেছেন ।

(আল্লাহ পাক অনত্র ইরশাদ করেন নিয়ামত দান করা হয়েছে নবী, সিদ্দিক, শহীদ সলেহগণকে)সুবহানাল্লাহ। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে নবীদের পাওয়া যাবে না। আর আল্লাহ পা্ক উনার জন্য স্বীয় জীবনটাকে বিলিয়ে দেওয়া বা শাহাদত বরণ করার জন্য অন্তর পরিশুদ্ধ করা চাই। আর সেজন্য কামিল মুর্শিদ বা হক্কানী ওলী আল্লাহ উনার নিকট বাইয়াত করে উনার সোহবত ইখতিয়ার করতে এবং উনার তরতীব মুতাবিক যিকির ফিকির করতে হবে। আর এই আয়াতে কারীমে সেই ওলী আল্লাহ উনাদের কথাই বলা হয়েছে উনাদের সংস্পর্শে আসলে সাধারণ মানুষ আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত লাভে ধন্য হতে পারবেন।

আয়াত নং ৭ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلا الضَّالِّينَ َ

গাইরিল মাগদুবে আলাইহিম ওয়ালাদ্ব দ্বো-য়াল্লিন
অর্থ-তাদের পথ নয়,যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট। (ইহুদী নাসারা মুজুসী মুশরিক)

 

ক্বিরাত করা: সূরা ফাতিহা শরীফ তিলাওয়াতের পর পবিত্র কুরআন শরীফ হতে   কমপক্ষে ছোট তিন আয়াত শরীফ অথবা যে  কোন একটি বড় আয়াত শরীফ যা ছোট তিন আয়াত শরীফের সমপরিমান অথবা পূণাঙ্গ একটি সূরা পাঠ করতে হবে।

প্রথম রাকায়াতে পবিত্র কুরআন শরীফ হতে যে কোন আয়াত শরীফ ক্বিরাত করলে পরবর্তী রাকায়াতে ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে পরবর্তী যে কোন আয়াত শরীফ ক্বিরাত করা যাবে এক্ষেত্রে এক আয়াত বা একাধিক আয়াত শরীফ  পাঠ না করে অর্থাৎ ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী আয়াত শরীফ থেকে ক্বিরাত আরম্ভ করলে শরীয়তে কোন বাধা নেই।

নামাজে ক্বিরাত করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ পবিত্র কুরআন শরীফের শেষ দশটি শুরা পাঠ করে থাকেন। কারণ উক্ত শুরা গুলি সহজ কিন্তু শেষের দশটি শুরা শরীফের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতায় একটি শুরা শরীফ বাদ দিয়ে পরবর্তী রাকায়াতে অন্য শুরা ক্বিরাত করা জায়িয নেই। বাদ দিলে বা ছেড়ে গেলে কমপক্ষে দুইটি শুরা ছেড়ে ক্বিরাত করতে হবে।যেমন: প্রথম রাকায়াতে সূরা ফীল-আলাম তারা ক্বিরাত করা হলে এর পর দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা কুরাইশ ক্বিরাত করতে হবে। দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা কুরাইশ এর পরিবর্তে সূরা মাউন ক্বিরায়াত করা যাবে না। এক্ষেত্রে ছেড়ে যেতে চাইলে দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা কুরাইশ ও সূরা মাউন উভয় সূরার পরবর্তী ধারাবাহিকতায় যে কোন সুরা ক্বিরাত করা যাবে। যেমন সূরা কাওছার ক্বিরাত করা যেতে পারে। অন্যথায় নামাজ শুদ্ধ হবেনা। আর এ করনেই উক্ত শুরা শরীফ সমূহের ধারাবাহিকতা জেনে নেওয়া অত্যাবশ্যক। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো:-

সূরা ফীল- আলাম তারা

সূরা কুরাইশ- লী ইলাফি কুরাইশীন

সূরা মাউন- আরওয়াই তাল্লাযী

সূরা কাওছার-ইন্না আত্বইনা

সুরা কাফিরূন-কূল ইয়া আয্যুহাল কাফিরুন

সূরা নছর-ইযা যা আ নাছরুল্লাহি

সূরা লাহাব-তাব্বত ইয়াদা আবি লাহাবিয়্যিউ

সূরা ইখলাছ-কূল হু ওযাল্লহু আহাদ

সূরা ফালাক্ব- কূল আয়্যুযু বি রব্বিল ফালাক্ব

সূরা নাস- কূল আয়্যুযু বি রব্বিন নাস

ক্বিরাতিল ইমাম ক্বিরাতি মুক্তাদী

জামাতের ক্ষেত্রে ইমাম নিজের এবং মুক্তাদীর পক্ষ থেকেই ক্বিরাত করে থাকেন বিধায় আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক যারা ইমাম সাহেবের পিছনে ইক্তিদা করবেন তাদের সূরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোন সূরা ক্বিরাত পাঠ  করার কোন আবশ্যকতা থাকেনা।

রুকূ: ক্বিরাত শেষে আল্লাহ আকবার (اَللَّهُ اَكْبَرُ) বলে রুকূতে যাওয়া।  স্বীয় হস্তদ্বয় হাটুদ্বয়ের উপর রেখে পিঠকে প্রসারিত করে স্থিরভাবে রুকূ করা।
রুকুতে ৩/৫/৭ নিম্নক্তো তাছবীহ পাঠ করতে হয়।

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ))

‘ছুবহানা রব্বীয়াল আযীম’।

অর্থঃ আমি মহান প্রতিপালক উনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি।


রুকূ হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানো
রুকূ হতে উঠে সোজা হয়ে দাড়ানোর সময় বলতে হবে

( سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ)

ছামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ।

অর্থঃ প্রশংসাকারীর প্রসংশা আল্লাহ পাক  শ্রবন করছেন।

একাকী কিংবা জামায়াতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ইমাম ও মুক্তাদী  সকলকেই  পাঠ করতে হবে।

অতঃপর ইমাম সাহেব সোজা হয়ে দাঁড়ালে বলতে হবে

رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ))

রব্বানা লাকাল হাম্ দ।

অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! সকল প্রশংসা আপনার জন্য।


সিজদাহ: অতঃপর আল্ল-হু আকবার বলে সিজদাহ করতে হবে।

মুখমণ্ডলের দুই পাশে দুই হাত ক্বিবলা বরাবর মাটিতে অবনত রেখে এমনভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দেশ্যে এমনভাবে সিজদাহ করতে হবে যেন প্রথমে নাক ও কপাল মাটিতে স্পর্শ করে।

অতঃপর রুকুর ন্যায় সিজদাহ –এর ক্ষেত্রেও  ৩/৫/৭ নিম্নক্তো তাছবীহ পাঠ করতে হয়।

(سُبْحَانَ رَبِّيَ الاَعْلَى)

“ছুবহানা রাব্বীয়াল আ‘লা”।

অর্থঃ ‘আমি আমার সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি’।

আল্ল-হু আকবার বলে সিজদাহ থেকে মাথা উঠাতে।


জলসাঃ (দুই সিজদাহ মাঝখানে বসা)

প্রথম সিজদাহ ও সিজদাহ তাসবীহ পাঠ করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ‘আল্লাহ আকবার’ বলে স্বীয় মাথা মুবারক উত্তলন করে  দুই সিজদাহ মাঝখানে সোজা স্থির হয়ে বসতেন এবং এই দূ‘আ পাঠ করতেন,

اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ وَ ارْحَمْنِى وَ اهْدِنِىْ وَ عَافِنِىْ وارْزُقْنِىْ

উচ্চারণঃ ‘আল্লাহু ম্মাগ ফিরলী ওয়ার হামনি ওয়ার যুক্কনী’

অর্থঃ “হে আল্লাহ পাক! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, হিদায়াত দান করুন, মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং জীবিকা দান করুন”।

এক্ষেত্রে দু’আ জানা না থাকলে কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমান সময় স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব।

এই দূ‘আ পাঠ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ আকবার বলে দ্বিতীয় সাজদায় যেতেন এবং প্রথম সিজদাহ মতই দ্বিতীয় সাজদায় তাসবীহ পাঠ করতেন। অতঃপর আল্ল-হু আকবার বলে সিজদাহ থেকে স্বীয় মাথা মুবারক উঠাতেন এবং দ্বিতীয় রাকা‘আতের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়াতেন।


দ্বিতীয় রাকাআতঃ দ্বিতীয় রাকা‘আতে প্রথম রাকা‘আতের ন্যায় সবকিছু করতেন, তবে ছানা ও আউযুবিল্লাহ পাঠ করতেন না। একথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখা দরকার যে, প্রত্যেক নামাযের প্রত্যেক রাকা‘আতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ।
(অর্থাৎ সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর নিয়মানুয়ী ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে ক্বিরাত শেষ করে রুকু, সোজা হয়ে দাড়ানো, সিজদাহ করা, সোজা হয়ে বসা, পূনঃরায় সিজদাহ করা। তবে দ্বিতীয় কিংবা শেষ রাকায়াতে দ্বিতীয় সিজদাহ এর পর সোজা হয়ে না দাড়িয়ে সোজা হয়ে বসে কওমায় বা উক্ত বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করতে হয়।)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চার রাকা‘আত বা তিন রাকা‘আত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম দুই রাকা‘আত শেষে  কওমায় তাশাহ্*হুদ পাঠের জন্য বসার সময় দুই সিজদাহ মাঝখানে বসার ন্যায় বসতেন। (বুখারী)


তাশাহুদঃ আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি ওয়াস্ ছলাওয়াতু ওয়াত্বায়্যিবাতু আস্ সালামু আলাইকা আইয়্যুহান্ নাবিউ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আস্-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সলিহীন আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহা’ম্মাদান আব্‌দুহু ওয়া রাসূলুহু।

অর্থঃ আমাদের  শ্রদ্ধা, আমাদের নামাজ এবং সকল প্রকার পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহ পাক উনার জন্য। হে নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার প্রতি সালাম। আপনার উপর আল্লাহ পাক উনার  রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক । আমাদের ও আল্লাহ পাক উনার নেক বান্দাদের উপর উনার রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ পাক ছাড়া আর কেউ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল্লাহ পাক উনার  বান্দা এবং রাসুল ।

তাশাহ্হুদ পাঠ করার সময় আশহাদু আল্লাইলাহা বলা মাত্রই ডান হাতের শাহাদত আঙ্গুলি খাড়া/ উঠানো মুস্তাহাব সুন্নত। অতঃপর ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহা’ম্মাদান আব্‌দুহু ওয়া রাসূলুহু পড়তে পড়তে আঙ্গুলি নামাতে হবে।

তাশাহ্হুদ পাঠ করার পর আল্ল-হু আকবার বলে চার বা তিন রাকা‘আত বিশিষ্ট নামাযের বাকী নামাযের জন্য পূনঃরায় দাঁড়াতে হবে।


তৃতীয় রাকাআতঃ
তৃতীয় রাকা‘আতে দ্বিতীয় রাকা‘আতের ন্যায় সবকিছু করতেন।
(অর্থাৎ সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর নিয়মানুয়ী ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে ক্বিরাত শেষ করে রুকু, সোজা হয়ে দাড়ানো, সিজদাহ করা, সোজা হয়ে বসা, পূনঃরায় সিজদাহ করা।দ্বিতীয় সিজদাহ এর পর সোজা হয়ে দাড়ান।

তবে তিন রাকায়াত নামাজের ক্ষেত্রে ইহাই শেষ রাকায়াত। আর তাই এক্ষেত্রে দ্বিতীয় সিজদাহ এর পর সোজা হয়ে না দাড়িয়ে সোজা হয়ে বসে তাশাহুদ এবং দরূদ শরীফ এবং দু’আ মাসুরা পাঠ করে যথারীতি প্রথমে ডান দিকে অতঃপর বাম দিকে সালাম ফিরায়ে নামাজ শেষ করতে হবে।


চতুর্থ রাকাআতঃ চতুর্থ রাকা‘আতে প্রথম রাকা‘আতের ন্যায় সবকিছু করতেন।
(অর্থাৎ সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর নিয়মানুয়ী ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে ক্বিরাত শেষ করে রুকু, সোজা হয়ে দাড়ানো, সিজদাহ করা, সোজা হয়ে বসা, পূনঃরায় সিজদাহ করা। চতুর্থ কিংবা শেষ রাকায়াতে দ্বিতীয় সিজদাহ এর পর সোজা হয়ে না দাড়িয়ে সোজা হয়ে বসে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরূদ শরীফ এবং দু’আ মাসুরা পাঠ করতে হয়।)

শেষ বৈঠক সালাম ফেরানোঃ তাশাহ্হুদ পাঠের জন্য শেষ বৈঠকে বসা ওয়াজিব। তবে বসার সময় ডান পা খাঁড়া রেখে বাম পায়ের  উপর বসা। এভাবে বসে প্রথমে আত্যাহিয়াতু পাঠ শেষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর (দরূদ শরীফ) সালাত পাঠ করতে হবে। যা দরূদে ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) নামে মশহুর।

দরূদ শরীফঃ আল্লহুম্মা ছল্লি আ’লা মুহা’ম্মাদিও ওয়া আ’লা আ’লি মুহা’ম্মাদিন কামা ছল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আ’লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাযীদ। আল্লহুম্মা বারিক আ’লা মুহা’ম্মাদিও ওয়া আ’লা আ’লি মুহা’ম্মাদিন কামা বারাকতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আ’লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাযীদ ।

অর্থ-হে আল্লাহ পাক, দয়া ও রহমত করুন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি উত্তম গুনের আধার এবং মহান। হে আল্লাহ পাক, বরকত নাযিল করুন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও উনার বংশধরদের উপর।নিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য ও সম্মানের অধিকারী ।

 

দরূদ পাঠ শেষে দূ‘আ মাসুরা পাঠ করতে হবে(বুখারী),

দূ মাসুরাঃ আল্লহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসী জুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ্ জুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর্ রহীম।

অর্থ-হে  আল্লাহ পাক, আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি  কিন্তু আপনি ব্যতীত অন্য কেহ গুনাহ মাফ করতে পারে না। অতএব হে আল্লাহ পাক অনুগ্রহ পূর্বক আমার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমার প্রতি সদয় হোন; নিশ্চই আপনি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু ।

অতঃপর প্রথমে ডান দিকে পরে বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করতে হবে।

 

 

নামাজে সুরা পড়ার নিয়ম

 

জামায়াতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কতিপয় জরুরী মাসয়ালা:-

১। ডানে বামে দেখে টাখনু (পায়ের গোড়ালীর কাছাকাছি বাইরের দিকে উচুঁ হাড়) বরাবর ঠিক রেখে কাতার সোজা করা এবং ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব।

২। আকামত চলাকালীন সময়ে আক্বামত দাতা ব্যাতীত সকলে বসে থাকা এবং হাইয়া আলাস ছালাহ বললে উঠে দাঁড়ায়ে কাতার সোজা করা মুস্তাহাব। তবে এক্ষেত্রে ইমাম সাহেবকে দায়িত্ব নিয়ে কাতার সোজা করায়ে অতঃপর নামাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় ওয়াজিব তরকের গুনাহে সকলেই গুনাহগার হবে।

৩। আক্বামত চলাকালীন সময়ে নামাজে উপস্থিত হয়ে ইমাম সাহেবের সাথে সাথে  আল্লহু আকবার বলা ফরজ। যা তাকবীর ওয়ালা নামে খ্যাত। এছাড়া একা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও নিয়ত করে আল্লহু আকবার (তাকবীবে তাহরীমা) উচ্চারণ করতঃ হাত বাঁধা ফরজ। (মনে মনে কিংবা উচ্চ – আওয়াজে) অন্যথায় ফরজ তরকের কারণে নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে।

৪। ফজর, মাগরিব ও  CÕkvi  নামাজ উচ্চ আওয়াজে এবং যোহর, আসর নামাজ মনে মনে আদায় করা সুন্নত।

৫। কোন কারণে যদি কেউ পবে এসে জামায়াতে শরীক হয়ে থাকেন অর্থাৎ জামায়াত শুরু হয়ে থাকে এবং নিয়ত উচ্চারণ করার সময় না থাকে তাহলে শুধু ্আল্লহু আকবার বলে হাত বেঁধে নামাজে শরীক হওয়া যাবে। তবে হাত বেঁধে সোজা হয়ে দাড়াতে হবে। অতঃপর  ইমাম সাহেবের সাথে রুকুতে যাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে রকুতে ইমাম সাহেবের সাথে কমপক্ষে এক তাসবীহ পাঠ করা চাই (তিন তাসবীহ-ই পাঠ করতে হবে) অন্যথায় উক্ত রাকায়াত জামাতের সঙ্গে আদায় হয়নি বিধায় শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর তিনি সালাম ফিরাবেন না ববং দাঁড়ায়ে নামাজের ঐ রাকয়াত একা আদায় করে নিবেন। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

৬। কোন কারণে যদি কেউ পবে এসে জামায়াতে শরীক হয়ে থাকেন অর্থাৎ জামায়াত শুরু হয়ে থাকে এবং এক রাকায়াত/দুই রাকায়াত/ তিন রাকায়াত অতিবাহিত হয়ে যায় তবে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর তিনি সালাম ফিরাবেন না ববং দাঁড়ায়ে নামাজের ঐ রাকয়াত সমূহ একা আদায় করে নিবেন। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

৭। কেউ যদি দুই রাকায়াত নামাজে এক রাকায়াত না পায় সেক্ষে্ত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে।ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য কোন সূরা ক্বিরায়াত করতে হবে।  অতঃপর  রুকু, সিজদাহ করে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

৮। দুই রাকায়াত নামাজে  শেষ বৈঠকে কেউ শরীক হলে ঐ ব্যাক্তি জামায়াতের ফজিলত লাভ করবে। তবে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার যে হুকুম সেভাবে আদায় করতে হবে।

৯। জামায়াতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব ব্যতীত কেউ সুরা ফাহিহা কিংবা অন্য কোন সূরা পাঠ করবেন না। কেননা, আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক ক্বিরাতিল ইমাম ক্বিরাতি মুক্তাদী। অর্থাৎ ইমাম সাহেব নিজের ও মুসল্রিগণের (মুক্তাদীর) পক্ষ খেকে ক্বিরায়াত করে থাকেন। তবে দেরীতে নামাজে শরীক হওয়ায় এক বা একাধিক রাকায়াত না পাওয়ার কারনে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। উক্ত রাকায়াত সমূহ ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর দাঁড়ায়ে একা আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা ও ক্ষেত্রবিশেষে অন্য সূরা মিলায়ে ক্বিরআত করতে হবে। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১০। কেউ যদি চার রাকায়াত নামাজে এক রাকায়াত/ দুই রাকায়াত নামাজ না পায় সেক্ষে্ত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে।ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা পাঠ করলে্ই চলবে। অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। কারণ সে তিন রাকয়াত নামাজ পেয়ে থাকলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকয়াত ঐ ব্যাক্তির জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় রাকায়াত যা ইমাম সাহেবের পিছনে আদায় করা হয়েছে। চতুর্থ

রাকায়াতটি তার জন্য তৃতীয় রাকায়াত যা ইমাম সাহেবের পিছনে ইতিমধ্যেই আদায় হয়ে গেছে। কাজেই না পাওয়া এক রাকায়াত নামাজ ঐ ব্যাক্তির জন্য চতূর্থ  রাকায়াত যেখানে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। কেননা ফরজ নামাজের শেষের দুই রাকায়াতে সূরা মিলানের ্আবশ্যকতা নেই। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১১। অনুরুপভাবে, চার রাকায়াত নামাজে দুই রাকায়াত নামাজ না পায় সেক্ষে্ত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা পাঠ করলে্ই চলবে। অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। কারণ সে দুই রাকয়াত নামাজ পেয়ে থাকলে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকয়াত ঐ ব্যাক্তির জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় রাকায়াত যা ইমাম সাহেবের পিছনে আদায় করা হয়েছে। কাজেই না পাওয়া দুই রাকায়াত নামাজ ঐ ব্যাক্তির জন্য তৃতীয় ও  চতূর্থ  রাকায়াত যেখানে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১২। তবে, চার রাকায়াত নামাজে তিন রাকায়াত নামাজ না পায় সেক্ষে্ত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার সময়  সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য কোন সূরা ক্বিরাযাত করতঃ এক রাকায়াত নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ সে চতুর্থ রাকায়াত  (ইমাম সাহেবের পিছনে আদায় করা হয়েছে) যা ঐ ব্যাক্তির জন্য প্রথম রাকায়াত। এবং এটি তার দ্বিতীয় রাকায়াত। অতঃপর তাশাহুদ পাঠ করে আল্লহু আকবার বলে উঠে দাঁড়াবে এবং  না পাওয়া বাকী দুই রাকায়াত নামাজ ঐ ব্যাক্তির জন্য তৃতীয় ও  চতূর্থ রাকায়াত যেখানে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১৩। চার রাকায়াত নামাজে  শেষ বৈঠকে কেউ শরীক হলে ঐ ব্যাক্তি জামায়াতের ফজিলত লাভ করবে। তবে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার যে হুকুম সেভাবে আদায় করতে হবে।

১৪। মাগরিবের নামাজে কেউ এক রাকায়াত না পেলে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা এক রাকায়াত নামজ আদায় করার সময় কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই।

১৫। অনুরূপভাবে মাগরিবের নামাজে  কেউ দুই রাকায়াত না পেলে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে।ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা এক রাকায়াত নামজ আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য কোন সূরা ক্বিরাযাত করতঃ এক রাকায়াত নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ এটি তার দ্বিতীয় রাকায়াত। অতঃপর তাশাহুদ পাঠ করে আল্লহু আকবার বলে উঠে দাঁড়াবে এবং  না পাওয়া অবশিষ্ট রাকায়াত নামাজ ঐ ব্যাক্তির জন্য শেষ রাকায়াত যেখানে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। অতঃপর শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১৬। মাগরিবের নামাজে  শেষ বৈঠকে কেউ শরীক হলে ঐ ব্যাক্তি জামায়াতের ফজিলত লাভ করবে। তবে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার যে হুকুম সেভাবে আদায় করতে হবে।

১৭। নামাজ ধীর স্থির ভাবে হুজুরীর সাথে আদায় করতে হবে। কোন প্রকার তাড়াহুড়া করা কিংবা দায় সারা ভাব নিয়ে নামাজ আদায় করলে তা কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে সূরা মাউন উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “ফাওয়াই লুল লিল মুসাল্লিন“ অর্থ ঃ মুসল্লিদেরকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
এখানে প্রশ্ন আসতে পাবে যারা নামাজ পড়েন তারাইতো মুসল্লি, তাহলে তাদেরকে কেন জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে ? জবাব হচ্ছে, তারা আল্লাহ পাক উনার সন্তষ্টির জন্য নামাজ আদায় করেনি। পক্ষান্তরে তারা দায়সারা বা লোক দেখানো নামাজ আদায় করেছে। কাজেই একা হউক কিংবা জামায়াতে হউক সর্ব প্রকার খেয়াল বাদ দিয়ে কমপক্ষে মাহান আল্লাহ পাক উনার সামনে দণ্ডায়মান আছি একথা স্মরণ রেখেই নামাজে দাড়াতে হবে এর্ং উনার সন্তষ্টির লক্ষেই নামাজ আদায় করতে হবে।

১৮। নামাজের প্রত্যেকটি ধাপ যেমান: রুকু, রুকুতে সময় নিয়ে তাসবীহ পাঠ করা,  অতঃপর ছামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ।
বলে সোজা হয়ে দাড়ান এবং কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমান সময় দাড়িয়ে খেকে অতঃপর আল্লহু আকবার বলে সিজদাহ করা। সিজদাহে সময় নিয়ে তাসবীহ পাঠ করা। অনুরূপ ভাবে সিজদাহ থেকে উঠে জলছায় স্থির হয়ে সময় নিয়ে বসা এবং দ্বিতীয় সিজদাহ করা। পররর্তী রাকায়াতে প্রথমে সোজা হয়ে দাড়াতে অতঃপর সূরা ফাতিহা , অন্য সূরা ক্বিরআত করতে হবে।
(এক তাসবীহ পরিমান সময় বলতে বুঝায় এক তাসবীহ পাঠ করতে যে সময় লাগে ঐ সময়।) নামাজে যদি কারও এক স্থানে এমনটি তরক হয়ে য়ায় তাহলে ওয়াজিব তরকের কারনে সিজদায়ে সাহু আদায় করত নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্ত দুই বা ততোধিক বার ওয়াজিব তরক করলে নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নামাজ পূণঃরায় আদায় করতে হবে।

১৯। নামাজের কোন একটি ওয়াজিব অনিচ্ছাকৃত ছেড়ে গেলে,
তিন রাকায়াত বা চার রাকায়াত বিশিষ্ট নামাজে
দ্বিতীয় রাকায়াত শেষে জলছায় বসে তাশাহুদ পাঠ করার পর ভুল বশত দরূদ শরীফ পাঠ করে ফেললে,
ভূল বশত দ্বিতীয় রাকায়াত শেষ করে জলছায় না বসে দাড়িয়ে গেলে অল্প দাড়ালে বসে পড়ে তাশাহুদ পাঠ করতে হবে। কিন্ত সোজা হয়ে দাড়িয়ে গেলে কিংবা সূরা ক্বিরআত আরম্ভ করে থাকলে তা চালিয়ে যেতে হবে। সিজদাহে সাহু দিতে হবে।
ঐ সকল ক্ষেত্রেই শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করে ডান দিকে অাস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ বলে এক সালাম ফিরায়ে আল্লহু আকবার বলে সিজদাহে যেতে হবে এবং যথারীতি পর পর দুই সিজদাহ করে পূণঃরায় তাশাহুদ, দুরূদ শরীফ, দুআ মাসুরা পাঠ করে  সালাম ফিরায়ে নামাজ শেষ করতে হবে। এভাবে সিজদায়ে সাহু আদায় করত নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

২০। মহিলাদের বসার তরতীবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরহিজগার আলিমা মহিলাদের থেকে সরসরি জেনে নেওযাটািই উত্তম।

২১। অসুস্থ ব্যাক্তির জন্য সন্মানিত শরীয়তে বিশেষ ছাড় রয়েছে। অসুস্থ ব্যাক্তি বসে বসে কিংবা তাও সম্ভব না হলে শুয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন। অতিরিক্ত অসুস্থ ব্যাক্তি যার পক্ষে কোন অবস্থায় নামাজ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না, তিনি সুস্থতা লাভ করার পর উক্ত নামাজ সমূহের ক্বাজা আদায় করলেই চলবে। কোন কাফ্ফারা আদায় করতে হবে না।

২২। অসুস্থ ব্যাক্তির জন্য মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ আদায় করা কিংবা দাড়িয়ে নামাজ আদায় করা বাধ্যবাধ্যতা থাকে না। তথাপি কেউ যদি মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন তা নিঃসন্দেহে ভাল। অসুস্থ ব্যাক্তি মসজিদে গিয়ে দাড়িয়ে নামাজ না পড়তে পারলে বসে বসে জামায়াতে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে মসজিদে চেযারে বসে নামাজ আদায় করা কোন অবস্থায় শরীয়তসম্মত হবেনা। কেননা মসজিদে চেয়ারে বসাটাই চরম বেয়াদবী। আর বেয়াদব সমস্ত কিছু থেকেই মাহরূম। কাজেই, আল্লাহ পাক না করূন কারও যদি  শারীরিক অবস্থা চরম খারাপ হয়, তাহলে সে মসজিদে না গিয়ে, বাসায় বসে বসে কিংবা শুয়ে শুয়ে ইশারায় নামাজ আদায় করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বাড়ীতে চেয়াবে বসাতে কোন অসুবিধা নেই।

 

মুনাজাত: মুনাজাত নামাজের অংশ নয়। এমনটি অনেকেই বলে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে কথাটা সত্যি। তবে পবিত্র কুরআন শরীফ হাদীস শরীফে কোথাও এমনটি কেউ দেখাতে পারবেনা যেখানে বলা হয়েছে যে নামাজের পর মুনাজাত করা যাবে না। বরং হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “ফরজ নামাজের পরে দু’আ কবুল হযে থাকে।”  আরও ইরশাদ হয়েছে, “মুনাজাত ইবাদতের মূল বা সারাংশ।”  নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি দুই হাত মুবারক উত্তোলন করে মুনাজাত করেছেন। সুতরাং মুনাজাত করাটা অদব ও খাস সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। বরং না করাটা জিহালতী, বিয়াদবী ও অহংকারীত্ব প্রকাশ করা যা কোন মুমিন মুসলমানের কাজ হতে পারে না। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে চাইলে উনি খুশী হন, আর না চাইলে উনি গোস্সা করেন। মহান আল্লাহ পাক না করূন, উনার রোশানলে পড়লে কারও কোন প্রকার ইবাদত মোটেই কবুলযোগ্য হবে না। আর তাই ইবাদত বন্দেগীতে সর্বচ্চো বিণয়ী হওয়া অত্যাবশ্যক। মাহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সর্বচ্চো বিণয়ী হয়ে উনার ইবাদত বন্দেগীতে মনোনিবেশ করার তাওাফক দান করুন। (আমীন)

 

কখন কিভাবে নামাজে সুরা পড়ার নিয়ম অনুযায়ী নামাজ পড়তে হয়, নামাজের কিরাত. ছানা পড়ার নিয়ম. ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার নিয়ম. নামাজে সুরা পড়ার নিয়ম, আজকের নামাজের সময়সূচী.

 

কিভাবে নামাজে সুরা পড়ার নিয়ম অনুযায়ী নামাজ পড়ার নিয়ম

Most Popular

......................................
Loading...
..................................
To Top